পূর্ব বাংলার সৃষ্টি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা পাওয়ার ইতিহাস
আমরা স্বাধীন বাংলাদেশী। তবে আমরা জানি কি, কিভাবে আসলো আমাদের এই স্বাধীনতা? কেমন করে বা সৃষ্টি হলো আমাদের ভূখণ্ড? আমরা অনেকেই এর ইতিহাস জানিনা। তবে বাংলাদেশি বা বাঙালি হিসেবে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস জানা উচিত। কিভাবে আমাদের ভূখণ্ড সৃষ্টি হল তা জানা উচিত।
পোষ্ট সূচিপত্রঃ পূর্ব বাংলার সৃষ্টি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা পাওয়ার ইতিহাস
- অখন্ড ভারত থেকে আমাদের জন্মের ইতিহাস
- ১৯৪০ সালের দ্বি-জাতি তত্বের ঘোষনা
- ভারতের স্বাধীনতা এবং পাকিস্তানের স্বাধীনতা
- পূর্ব বাংলার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
- ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন
- ২৫শে মার্চের অপরেশন সার্চলাইট
- মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের বিজয়
- লেখকের মন্তব্য
অখন্ড ভারত থেকে আমাদের জন্মের ইতিহাস
ব্রিটিশ শাসনের সময় ভারতবর্ষ ছিল বিশাল এক উপনিবেশ। এখানে হিন্দু, মুসলিম,
বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকল ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করতো। তবে হিন্দু ও মুসলমান
ছিল তুলনামূলক বেশি। ব্রিটিশ শাসকদের পতনের আচ লক্ষ্য করে মুসলমানরা বুঝতে পারে
ভারত যদি অখন্ড থেকে যায়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা মুসলমানদের উপর
কর্তৃত্ব চালাবে। এসব আচ লক্ষ্য করে মুসলমানেরা আলাদা রাষ্ট্রের দাবী জানায়।
প্রথম পর্যায়ে এসব দাবির কোন ভিত্তি না থাকলেও, পরবর্তীতে আন্দোলনের ফলে ঠিকই
ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তৎকালীন পূর্ব বাংলা
অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ছিল সেই পরিকল্পনার অংশ।
বাংলাদেশে অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ মুসলমান হওয়ার কারণে
পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে স্বাধীনতা দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশের
পাশাপাশি বর্তমানে ভারতের হায়দ্রাবাদও স্বাধীন হিসেবে ঘোষিত হয়। তবে ভারত
সরকার পরবর্তীতে হায়দ্রাবাদকে আবার দখল করে নেয় এবং ভারতের একটি প্রদেশ
হিসেবে ঘোষণা করে।
১৯৪০ সালের দ্বি-জাতি তত্বের ঘোষনা
২৩ শে মার্চ ১৯৪০ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশন গৃহীত হয়। অধিবেশনের
সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। সেই অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন,
ইন্ডিয়া বিশাল এক উপমহাদেশ এই উপমহাদেশে দুটি ধর্মের মানুষ বেশি তাই ধর্মের
ভিত্তিতে এই উপমহাদেশকে ভেঙে দুটি রাষ্ট্রে পরিণত করা হোক।
এই ঘোষণার পর হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রেষারেষি শুরু হয়ে যায়। তৎকালীন
ভারতের সবচেয়ে সফল দল কংগ্রেস ভারতের নেতৃত্ব দিতে চাইলেও, মোহাম্মদ আলী
জিন্নাহর এই ঘোষণার পর মুসলমানরা তা মেনে নিতে রাজি ছিল না। মুসলমানেরা মনে
করছিল, কংগ্রেস যদি ভারতের নেতৃত্ব দেয় তাহলে তাদের রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষিত
হবে।
তাছাড়া মুসলমানদের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস,তাদের সামাজিক রীতি-নীতির সঙ্গে
হিন্দুদের বিশাল পার্থক্য ছিল এবং মুসলমানদের নিরাপত্তাও শঙ্কা ছিল। যদি
ব্রিটিশরা ভারত থেকে চলে যায়, তাহলে ভারতের ক্ষমতা যাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ
হিন্দুদের হাতে আর মুসলমানেরা চিরকাল বঞ্চিত থাকবে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে। এই
ভয় থেকে তারা দেশভাগের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তান নামে
দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয় আর পূর্ব বাংলা হয়ে যায় পাকিস্তানের একটি
প্রদেশ।
ভারতের স্বাধীনতা এবং পাকিস্তানের স্বাধীনতা
পাকিস্তানের স্বাধীনতাঃ
১৪ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করে। দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের পরে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়। ভারতের তৎকালীন
দুটি বড় দল কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের মধ্যে মত বৈষম্য থাকায় ব্রিটিশ
সরকার ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ পাস করে। পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি
আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লিয়াকত আলী খান এবং পাকিস্তানের প্রধান
গভর্নর ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
ভারতের স্বাধীনতাঃ
ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর
ধীরে ধীরে ভারত ব্রিটিশদের হাতে চলে যায় তারপর ব্রিটিশরা ২০০ বছর ভারতবর্ষ
শাসন করে। নিরীহ ভারতীয়রা মুখ বুজে তা সহ্য করে নেয়। তবে মহাত্মা গান্ধীর
ডাকে সারা দিয়ে সব ভারতীয়রা একজন হয় এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গড়ে
তোলে। ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংরেজরা বিরাট ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের
আর ভারতকে ধরে রাখার সামর্থ্য ছিল না। তাই পাকিস্তানের এক দিন পর ভারতকেও
স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয় তারা। এভাবে ভারত তার স্বাধীনতা অর্জন করে।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন জওহরলাল নেহেরু এবং ভারতের প্রথম
গভর্নর নিযুক্ত হন লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন।
আরো পড়ুনঃ ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের ইতিহাস
পূর্ব বাংলার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পূর্ববাংলা পাকিস্তানের মধ্যে চলে
যায়। পূর্ব বাংলাকেও শাসন করতে থাকে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানিরা পূর্ব
বাংলার বাঙালিদের অধিকারের অর্ধেকও দিত না। তাই প্রথম থেকেই পশ্চিম
পাকিস্তানিদের উপর পূর্ব পাকিস্তানের কোন শ্রদ্ধা ছিল না। তারা পূর্ব বাংলা
থেকে লুটপাট করে যা পেতো সব পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ে যেত। সরকারি চাকরির
ক্ষেত্রেও বাঙ্গালীদের পিছিয়ে রেখেছিল তারা। কিন্তু নিরীহ বাঙালির কিছুই
করার ছিল না। তারা সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে নিচ্ছিল।
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু ২১ মার্চ ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল সফরে এসে এক
জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। যা গোটা বাঙালি জাতিকে ক্ষিপ্র করে তোলে। তিনি বলেন
উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তখন বাঙালির আর চুপ
থাকেনি। যখন মায়ের ভাষার উপর আক্রমণ করা হয়, তখন থেকেই শুরু হয় যুদ্ধ। তখন
থেকে বাঙালিরা পাকিস্তানীদের ঘৃণা করতে শুরু করে। তবে তাতে পাকিস্তানের তেমন
কোন সমস্যা হয়নি। তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল, নিজেদের মত। তারা
বুঝতে পারেনি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই একটা ঘোষণা পরবর্তীতে বাঙ্গালীদের
স্বাধীনতার চেতনা হয়ে উঠবে।
সময়টা ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। যখন পাকিস্তানের পার্লামেন্টে উর্দুকে
পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা হয় তখন নিরীহ বাঙালির আর মুখ বুজে
থাকেনি। তারা ময়দানে নেমে পড়ে। শুরু করে জ্বালাময়ী আন্দোলন। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা শুরু করে মায়ের ভাষা রক্ষা করার যুদ্ধ। এই যুদ্ধ
থামাতে এসে পুলিশ গুলি চালালে গুলিতে সালাম, রফিক, বরকত সহ আরো নাম না জানা
অনেকে মারা যায়। এই ঘটনা পুরো বাঙালি জাতিকে নাড়িয়ে দেয়। পুরো বাঙালি
জাতি আন্দোলনের নেমে পড়ে। পরবর্তীতে ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে বাংলাকে
পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।
১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন
১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন বাঙ্গালীদের স্বাধীনতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ
পটভূমি। এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার মানুষের অধিকার আদায়। বাংলার
মানুষ যেন স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে সেই অধিকার আদায়ের লড়াই। সে সময় বাংলার
মানুষের উপর যে বৈষম্য চালু করেছিল পাকিস্তান সরকার তা নির্মূল করাই ছিল ছয়
দফা আন্দোলনের মূল লক্ষ্য
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বরাবরই পশ্চিম পাকিস্তানেররা বড় বড় পদে ছিল। তারা পূর্ব
পাকিস্তানেরদের কখনো এসব বড় পদের কথা কল্পনাও করতে দিত না। অর্থনৈতিক বৈষম্য
ছিল প্রবল। ভাষা ও পূর্ব বাংলার সামরিক খাত ছিল বরাবরই অবহেলার।
তাই শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন শুরু হয়। যে
আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বাঙালিদের অধিকার আদায়। বাঙ্গালীদের সুরক্ষার দাবি।
বাঙ্গালীদের প্রতি বৈষম্য তুলে নেওয়ার দাবি।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
বাঙ্গালীদের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য ও ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে
বাঙালিরা অসন্তুষ্ট ছিল। জেনারেল আইয়ুব খান দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে
দেশের অর্থনীতি তলানিতে গিয়ে পড়ে। এক কথায় পূর্ব বাংলার ছাত্র থেকে শুরু
করে কৃষক সবাই অসন্তুষ্ট ছিল।
চারিদিকে তখন বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। স্কুল-কলেজের ছাত্র
আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। ছাত্রদের সাথে যোগ দেয় সাধারণ জনগণ। যার কারণে
আন্দোলন আরো প্রবল বেগে গর্জে ওঠে। এ আন্দোলন দোমাতে আইয়ুব খানের সরকার
সেনাবাহিনী নিয়োগ করে। সেনাবাহিনীর নিশংসতায় অনেক ছাত্র শহীদ হয়। আন্দোলন
আরো প্রবলবেগ ধারণ করে।
যার কারণে পঁচিশে মার্চ ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতা গ্রহণ
করেন ইউনুস খানের উত্তরসূরী ইয়াহিয়া খান। ক্ষমতা গ্রহণ করে ইয়াহিয়া খান
১৯৭০ সালে একটি সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
আরো পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখার নিয়ম
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন
১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খান সাধারন নির্বাচন দেওয়ার অঙ্গিকার করলেও, পরবর্তিতে তা
বাস্তবায়ন করার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। যার কারনে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারন
জনগন আবার আন্দলোন শুরু করে। এই আন্দলোনেও ছাত্র থেকে শুরু করে সকল পেশার লোক
যোগ দেয়। যার কারনে আন্দলোন বেগমান হয়ে উঠে। আন্দলোনে তোপের মুখে পড়ে
ইয়াহিয়া সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল
ছিল আওয়ামী লীগ এবং পশ্চিম পাকিস্তানের হয়ে লড়াই করে পাকিস্তান
পিপলস পার্টি।
এই লড়াইয়ে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লিগ ১৬০ টি আসন পায়
এবং পশ্চিম পাকিস্তান একটিও আসন পায়নি। যা পশ্চিম পাকিস্তানীদের জন্য খুবই
লজ্জার বিষয় হয়ে দাড়ায়। পাকিস্তানীরা বুঝতে পারে পূর্ব বাংলায় তাদের কর্তৃত্ব
ফলানোর আর কোন উপায় নেই। কারণ কখনোই তারা পূর্ব বাংলার লোকদের ঠিকঠাক আধিকার
দেয়নি। তখন তারা ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করে। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা ছাড়তে
অস্বীকৃতি জানায়।
তবে ইয়াহিয়া খান ও শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে শান্তি পূর্ণভাবে ক্ষমতা
হস্তান্তরের আলোচনা হয়। কিন্ত ভুট্টো ও পাকিস্তানের সামরিক ষড়যন্ত্রে তা
বার্থ হয়। পরবর্তীতে এই স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে শুরু হয় ৭১ এর রক্তক্ষয়ী
যুদ্ধ। যে যুদ্ধে পাকিস্তানেররা আমাদের ৩০ লক্ষ নিরীহ লোককে শহীদ করেছে। এক
কথায় ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল বাঙ্গালীদের মুক্তির পথ।
২৫শে মার্চের অপরেশন সার্চলাইট
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ইয়াহিয়া খান যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করতে
রাজি ছিল না। তখন আবার পূর্ব বাংলা জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের
তোপে পরে ২৫ শে মার্চ রাতে গোপনে ইয়াহিয়া খান দেশত্যাগ করেন আর
পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী শুরু করে নিরীহ বাঙালিদের উপর অন্যায় অত্যাচার।
তারা চেয়েছিল বাঙ্গালীদের যেসব কৃতি সন্তান আছে যেমন ডাক্তার, সাংবাদিক,
শিক্ষক, উচ্চপদস্ত ব্যাক্তি ইত্যাদি লোকদের অর্থাৎ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে
বাঙালিকে মেধাশূন্য করে ফেলবে। তাহলে প্রতিবাদ করার আর কেউ থাকবে না। তখন
তারা সহজেই দেশকে শোষণ করতে পারবে।
এরকম নোংরা চিন্তা নিয়ে তারা হাজারো বুদ্ধিজীবীকে মেরে ফেলে। তারা মনে
করেছিল বুদ্ধিজীবীরা মারা গেলে প্রতিবাদ করার কেউ থাকবে না। কিন্তু
বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করাই ছিল তাদের প্রধান ভুল।
তারপর সাধারণ জনগণ পাকিস্তানি বাহিনী দেখলেই তাদের উপর হামলা শুরু করে।
তারা চিন্তাও করতে পারেনি, এত শান্ত সৃষ্ট বাঙালি জাতি কিভাবে এত ক্ষীব্র
আচরণ করতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের বিজয়
২৫ শে মার্চ রাতে গণহত্যার পর, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে মনে করে
৩০ লক্ষ বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেউ মৃত্যুর ভয় না করে প্রত্যেকে
প্রত্যেকের কাছে যা আছে তাই নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
অবশেষে ভারতের সহায়তায় বাঙালিরা কিছুটা আশ্বাস পায়। তবে এর আগেই
পাকিস্তানিরা আমাদের ৩০ লক্ষ লোককে শহীদ করেছে। তারা আমাদের উপর নির্মম
অত্যাচার চালিয়েছে। মুক্তিবাহিনী ও যৌথবাহিনী মিলে পাকিস্তানী সেনাদের
পরাস্ত করে। শুরু হয় আমাদের দেশের নতুন এক অধ্যায়।
অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে, আমরা
চূড়ান্ত বিজয় লাভ করি। যার ফলে আমরা পাই, নতুন একটা পতাকা। আমরা হয়ে যাই
নতুন একটা জাতি। যুদ্ধের পরপরই ভুটান আমাদের স্বীকৃতি দেয় সর্বপ্রথম। আমরা
হয়ে যাই বিশ্ব দরবারে নতুন এক জাতি।
লেখকের মন্তব্য
আমরা যারা আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস জানিনা। যারা জানিনা কিভাবে সৃষ্টি হল
এই ভূখণ্ড। তাদের একবার হলেও এই পোস্টটি পরে দেখা উচিত।
কারণ আমরা জাতি হিসেবে বাঙালি। আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের ইতিহাস না জানি,
তাহলে বিশ্ব দরবারে জাতি হিসেবে পরিচয় দিব কিভাবে। তাই যে মাতৃভূমিতে
বসবাস করি, সেই মাতৃভূমি ইতিহাস জানা খুবই জরুরী।
যারা দেশের ইতিহাস জানে না, আমার এই পোস্টটি পড়লে আশা করি আর কিছু জানার
বাকি থাকবে না। তাই আশা করি আপনারা এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন এবং
দেশের জাতির ইতিহাস নিজের ভিতরে ধারণ করবেন।
জোবায়ের ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url