ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের ইতিহাস
যুগে যুগে অনেক মুসলিম শাসক ভারতবর্ষকে শাসন করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো মুঘল সাম্রাজ্য। মুঘলরা মোটামুটি ৩৩১ বছর ভারত শাসন করেছে। ১৫২৬ থেকে শুরু করে ১৮৫৭ পর্যন্ত শাসন করেছে। ব্রিটিশ শক্তি পুরোপুরিভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ভারতবর্ষ মুঘলদের হাতে ছিল। যদি সে সময় ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে না আসতো তাহলে হয়তো এখন পর্যন্ত ভারতবর্ষ মুঘলদের হাতে থাকতো। এখনো পর্যন্ত তারা ভারত শাসন করতো।
পোষ্ট সূচিপত্রঃ ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের ইতিহাস
- মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর
- মুঘলদের দ্বিতীয় সম্রাট নাসিরউদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ুন
- মুঘলদের তৃতীয় সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর
- মুঘলদের চতুর্থ সম্রাট নুরউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
- মুঘলদের পঞ্চম সম্রাট শাহাবউদ্দিন মোহাম্মদ শাহজাহান
- মুঘলদের ষষ্ঠ সম্রাট মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ ঔরঙ্গজেব
- লেখকের মন্তব্য
মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর। তার জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি
১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে আন্দিজান, ফারগানা উপত্যকায়, বর্তমানে যেটা উজবেকিস্তান নামে
পরিচিত। তিনি মায়ের সূত্রে চেঙ্গিস খান ও বাবার সূত্রে তৈমুর লং এর উত্তরসূরী।
ছোটবেলা থেকে বাবর ছিল যুদ্ধবাজ এক শাসক। তিনি তার বাবার সূত্রে পাওয়া রাজ্য
মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে হারিয়ে ফেলেছিলেন। কারণ তিনি পাশের রাজ্যে আক্রমণ
করেছিলেন, নিজের রাজ্যের সীমানা বৃদ্ধির আশায়। কিন্তু তিনি নির্মমভাবে পরাজিত
হন এবং নিজের রাজ্য হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে বাবরের চোখ যায় ভারতবর্ষের দিকে।
কারণ ভারতবর্ষের সেসময় ছিল সোনায় সোহাগা। তখন ভারতবর্ষ শাসন করছিল দিল্লি
সালতানাত। ভারতবর্ষ এতটাই সম্পদশালী ছিল যে, কিছুদিন পর পর ভারতবর্ষে আফগান
শাসকেরা আক্রমণ চালিয়ে লুট করে নিয়ে যেত। তাছাড়া ফসল ফলার দিক থেকে
ভারতবর্ষে ছিল সবার শীর্ষে। তাই অধিকাংশ শাসকদের চোখ ছিল ভারতবর্ষের দিকে।
কিন্তু ভারতবর্ষ আক্রমণ করে দখল করা এতটা সহজ ছিল না। কারণ ভারতবর্ষে তখন
স্থায়ী ভাবে দিল্লি সালতানাতের বড় বড় শাসকেরা শাসন করছিল।
মোহাম্মদ ঘুড়ির ভারত বিজয়ের পর মুসলিম শাসকদের অধীনে ভারতবর্ষ অনেক শক্তিশালী
হয়ে যায়। তাই ভারতবর্ষের দিকে চোখ দেওয়া কেবলমাত্র মূর্খামু। কিন্তু সম্রাট
বাবর ছিলেন একজন নির্ভীক যোদ্ধা। তিনি ছিলেন যুদ্দাবাজ চেঙ্গিস খান ও তৈমুর লং
এর উত্তরসূরী। তাই তিনি ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে আক্রমণ করে বসেন।
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের পানিপথের যুদ্ধ
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি সালতানাতের শেষ শাসক ইব্রাহিম লোদী ও উজবেকিস্তানের
শাসক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে বাবর সর্বপ্রথম
কামানের ব্যবহার করেছিলেন। এটি ইতিহাসে পানিপথের যুদ্ধ নামে পরিচিত। পানিপথ
নামেক এক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই এটিকে পানিপথের যুদ্ধ বলা হয়। এই
যুদ্ধে বাবর জয়ী হোন এবং ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের গুড়াপত্তন করেন।
এই যুদ্ধে বাবরের সেনাবাহিনীতে কেন সংখ্যা ছিল মাত্র ১২০০০ হাজার। কিন্তু এত কম
সেনা নিয়ে বাবর কিভাবে ভারতবর্ষে দখল করলো? কারন ছিল, বাবরের সেনাবাহিনীর
অধিকাংশ সেনা ছিল যুদ্ধবাজ, কৌশলী এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাছাড়া তিনি
ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম কামানের ব্যবহার করেছিলেন। তার বারো হাজার সৈন্যের মধ্যে
অশ্বারোহী ছিল ৯০০০ হাজার। পদাদিক বাহিনী ছিল ৩০০০ হাজার। অপরদিকে ইব্রাহিম
লোদীর সেনা সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। কিন্তু তার অধিকাংশ সেনা ছিল অনভিজ্ঞ, যুদ্ধের
কথা শুনে সাধারণ জনগণকে যুদ্ধের ময়দানে শামিল করেছিল। কিন্তু ইব্রাহিম লোদী
পিছিয়ে ছিলাম এক জায়গায় সেটা হল কামান। আরে কামানের কারণে তিনি বাবর এর কাছে
হেরে যান।
শেষ পর্যন্ত পানিপথের যুদ্ধে তুর্কি সেনাদের সাহায্যে জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর
জয় লাভ করেন এবং ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন। তাই মুঘলরা থাকে খুব
সম্মানের সাথে স্মরণ করে। তার প্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্য ৩৩১ বছর ভারতবর্ষে
শাসন করে। ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে ২৬ ডিসেম্বর ভারতের আগ্রয় মাত্র ৪৭ বছর বয়সে
মুঘল সম্রাট বাবর ইন্তেকাল করেন। তবে বাবরের মৃত্যু নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত
আছে। বাবরের পুত্র হুমায়ুন যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন বাবর আল্লাহর কাছে
দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ তুমি আমার সন্তান হুমায়ুন কে সুস্থ করে দাও এবং
আমাকে নিয়ে নাও, আমার হায়াত তুমি আমার সন্তানকে দান করো। তারপর সম্রাট বাবর
মৃত্যুবরণ করেন।
মুঘলদের দ্বিতীয় সম্রাট নাসিরউদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ুন
১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে বাবা জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের মৃত্যুর পর মাত্র ২৩ বছর
বয়সে মুঘল সিংহাসনে বসেন নাসিরউদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ুন। তিনি ৬ মার্চ ১৫০৮
খ্রিস্টাব্দে মহম্মদী বেগমের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তার চরিত্র ছিল খুবই
ভালো। তিনি খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তবে তিনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমালোচিত
হয়েছেন তার দুর্বল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে। তাছাড়া তিনি মুঘলদের
ইতিহাসের খুবই ভালো একজন শাসক। তাছাড়া শিক্ষাগত দিক বলতে গেলে হুমায়ুন
বিজ্ঞান, জ্যোতিষশাস্ত্র ও সাহিত্যের প্রতি প্রবল আগ্রহী ছিলেন। তাই তিনি
বিশাল এক গ্রন্থাগার তৈরি করেছিলেন।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি সমালোচিত। বিশেষ করে তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের
কারণে। যার কারণে শেরশাহের কাছে তিনি একবার সিংহাসন হারিয়েছিলেন। যদিও
পরবর্তীতে তিনি তা আবার ফেরত পান যুদ্ধ করে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন
রাজনীতির ক্ষেত্রে হুমায়ুন কখনোই যোগ্য ছিলেন না। তবে তার সময়ে কোন অন্যায়
অত্যাচার হত না। তিনি আল্লাহ ভীরু শাসক ছিলেন।
২৭ শে জানুয়ারি ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের এক দুর্গে লাইব্রেরীর সিঁড়ির উপরে
বই পড়ছিলেন হুমায়ুন। হঠাৎ তিনি পা পিছলে পড়ে যান এবং খুবই গুরুতর আঘাত
পান। পরবর্তীতে এই আঘাতের কারণে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মুঘলদের দ্বিতীয় সম্রাট
ইন্তেকাল করেন।
মুঘলদের তৃতীয় সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর
বাবা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে
বসেন আকবর দা গ্রেট। তিনি ১৫ই অক্টোবর ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ছিলেন মুঘলদের সবচেয়ে সফল সম্রাট। পিতা হুমায়ুনের অকাল মৃত্যুতে মাত্র
১৩ বছর বয়সে তাকে মুঘল সিংহাসনে বসতে হয়। কিন্তু কে জানতো এই আকবরই হয়ে
যাবে, মুঘলদের সবচেয়ে সেরা সম্রাট। তাকে মুঘল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাশীল
ও সফল সম্রাট হিসেবে দেখা হয়। তবে লোকের বলা কথাতে নয়, তার কার্যক্রম তার
ইতিহাস শৈলী, শিল্পকর্ম তাকে এই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার সময়ে
ভারতবর্ষের প্রত্যেকটা রাজাকে বস্যতা স্বীকার করানো হয়।
ছোটবেলা থেকেই আকবর ছেলে অত্যন্ত মেধাবী। তিনি পড়াশোনা করতেন ছোটবেলা থেকেই,
ইসলামের ধর্মীয় শিক্ষা, জ্যোতিবিদ্যা, সাহিত্য ও ইতিহাস ইত্যাদির উপরে তিনি
শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং তার শিক্ষক ছিলেন মুসলিম পন্ডিত ও তুর্কি শিক্ষক।
তার সমেয়ে ভারতবর্ষে শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে সফল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত
সংস্কৃতিমনা। তার সময়ে স্থাপত্যশৈলীর মধ্যে ছিল মসজিদ মন্দির আরো অনেক
ধর্মীয় দালান।
মুঘলদের তৃতীয় এই সম্রাট ন্যায়পরায়ণ ও সহনশীল ছিলেন। তবে নতুন ধর্ম নিয়ে
আসার পর থেকে অনেকের কাছে তিনি কাফের বলে আখ্যায়িত হন। তার নতুন ধর্মের নাম
ছিল দ্বীন-ইলাহী। যার উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের মানুষকে এই ধর্মের ছায়াতলে আনা।
তিনি জিজিয়া করে তুলে দেন। ১৫ ই অক্টোবর ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে ফতেহপুর সিক্রির
কাছে আগ্রায় সম্রাট আকবর তার প্রাসাদে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর মূল কারণ
ছিল আমাশয়। সে সময় আমাশয় রোগের উন্নত চিকিৎসা ছিল না যার কারণে রোগটি
দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তিনি মারা যান।
আরো পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখার নিয়ম
মুঘলদের চতুর্থ সম্রাট নুরউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
সম্রাট জাহাঙ্গীরের জন্ম ৩১ ই আগস্ট ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে। বাবা আকবরের মৃত্যুর
পর তিনি ৩৬ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের মাতার নাম মরিয়ম উজ
জামানি। সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ একজন শাসক। তিনি তার
আগ্রার দুর্গে সোনার শৃঙ্খল ঝুলিয়ে রাখতেন, যাতে কোন প্রজা অন্যায়ের শিকার
হলে সরাসরি রাজা কে জানাতে পারে। এই ঘটনা থেকেই বুঝা যায়, সম্রাট নুরউদ্দিন
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কতটা ন্যায়পরায়ণ ও বিচার প্রেমী শাসক ছিলেন। জাহাঙ্গীর
ছিলেন চিত্রকলা ও প্রকৃতির অনুরাগী একজন শাসক। তার রাজত্বকালে মুঘল চিত্রকলার
বিকাশ সর্বোচ্চ ছড়িয়ে পড়ে।
সম্রাট জাহাঙ্গীর যদিও মুসলমান ছিলেন কিন্তু তিনি সব ধর্মের মানুষকে সম্মান
করতেন। তিনি সব ধরনের মানুষকে সমান অধিকার দিতেন। রাজ কর্মচারী নিয়োগেও তিনি
কখনো ধর্মকে প্রাধান্য দিতেন না। যে ব্যক্তি যোগ্য তাকেই তিনি নিয়োগ দিতেন।
সে যেকোনো ধর্মের ব্যক্তি হোক না কেন। তিনি বিচার করার সময় কখনো অন্যায়ের
পক্ষে রায় দিতেন না। যার কারনে প্রজারা তার কাছে সব সময় ন্যায় বিচার পেত।
যদি কোন মুসলমান ও অন্য ধর্মের লোকের মধ্যে সংঘর্ষ হতো। সেই বিচার জাহাঙ্গীর
করতেন নবীর সুন্নত অনুযায়ী। যদি অন্য ধর্মের ব্যক্তির পক্ষে রায় হতো তিনি
রায় শোনাতে বিন্দুমাত্র দেরি করতেন না। যা থেকে বোঝা যায় জাহাঙ্গীর খুবই
ন্যায় পরায়ন একজন শাসক ছিলেন।
তার এই ন্যায় পরায়ন শাসনব্যবস্থার কারণে প্রজারা তার প্রতি খুশি ছিল। তার
এই ন্যায় বিচারের ফলে তার রাজত্বে অন্যায় ও অবিচার কমে গিয়েছিল। ২৮
অক্টোবর ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দে ভাইমবার নামক স্থানে এই মহান শাসক মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানা যায়, জীবনের শেষ দিকে তিনি অত্যাধিক মধ্যপান
করতেন। সাথে ছিল শ্বাসকষ্ট ও যক্ষ্মার মত রোগের লক্ষণ।
মুঘলদের পঞ্চম সম্রাট শাহাবউদ্দিন মোহাম্মদ শাহজাহান
মুঘল সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট শাহাবউদ্দিন মোহাম্মদ শাহজাহান জন্মগ্রহণ করেন
৫ জানুয়ারি ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে, লাহোরে। বাবা জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর ১৬২৮
খ্রিস্টাব্দে ৩৬ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। তিনি মুঘলদের মধ্যে সর্বোচ্চ
স্থাপত্য শৈলী নির্মাণকারী সম্রাট। সম্রাট শাহজাহানের মাতার নাম জগৎ গোসাই।
শাহাজান ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও শিল্পপ্রেমী শাসক। তার শাসন যুগকে বলা হয়
মুঘল সাম্রাজ্যের শিল্পের স্বর্ণযুগ। শাহজাহান শাসক হিসেবে খুবই দয়ালু ও
ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি তার সময়ে প্রজাদের উপর থেকে অতিরিক্ত কর মওকুফ
করেছিলেন যাতে তার প্রজারা সহজ ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। তিনি বিচার করার
ক্ষেত্রে সব সময়ই ন্যায়ের পক্ষে রায় দিতেন।
এসব ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনকালে সবসময় প্রজারা
শান্তিতে বসবাস করতে পেরেছে। বর্তমান সময়ের মতো ধর্মে ধর্মে দাঙ্গা বাঁধেনি।
এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায় মুসলমানরা কখনো অন্যায় বিচার এবং ধর্মের পক্ষে রায়
দেয় না। তারা আল্লাহর নবীর সুন্নতকে ভালোবেসে সবসময়ই ন্যায়ের পক্ষে রায়
দেয়। সম্রাট শাহজাহান তো শুধুমাত্র একটা সংখ্যা। যুগে যুগে যত মুসলমান শাসক
এসেছে তারা কখনো অন্যায়ের পক্ষে ছিলেন না। তারা ছিলেন ন্যায় ও সাম্যের
পক্ষে। বর্তমান সময়ে আমাদের ও তাদের চরিত্র অবলম্বন করতে হবে। তাহলে আমাদের
সমাজে আর কোন ঝামেলা বা দাঙ্গা থাকবে না। তবে সম্রাট শাহজাহানের সময় তিনি
স্থাপত্য শৈলির দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। যার বড় একটি প্রমাণ তাজমহল।
তিনি তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের স্মরণে আগ্রায় তাজমহল তৈরি করেছিলেন। যা
এখন হাজারো মানুষের পর্যটন কেন্দ্র। ভারতবর্ষকে সাধারণ পরিবেশ থেকে তুলে এনে,
বড় বড় স্থাপত্য শৈলী তৈরি করে, পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছেন এই মুঘল
সম্রাটরা।
২২ জানুয়ারি ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে মুঘলদের এই মহান সম্রাট আগ্রায় তার প্রাসাদে
বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর কারণ ছিল জীবনের শেষ ৮ বছর তার
ক্ষমতালোভী পুত্রের হাতে বন্দি থেকে নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে
চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বিদায় নেন।
আরো পড়ুনঃ হানিনাট খাওয়ার উপকারিতা
মুঘলদের ষষ্ঠ সম্রাট মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ ঔরঙ্গজেব
ঔরঙ্গজেব ছিলেন মুঘলদের ৬ নম্বর বাদশা। তিনি ৩১ অক্টোবর ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে
দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে ৪০ বছর বয়সে পিতা
শাজাহান কে বন্দী করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। ঔরঙ্গজেবের মাতার নাম মুনিমা
বেগম। শাসক হিসেবে তিনি খুব উদার ও ভাল মনের মানুষ ছিলেন। তিনি একমাত্র
মুঘল শাসক যিনি ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ ছিলেন। তার ন্যায় পরায়ন নীতির
কারণে অনেকে তাকে জিন্দাপীর বলে ডাকত।
তিনি খুবই ধার্মিক একজন শাসক ছিলেন। ধর্মের ব্যাপারে তিনি কখনো আপোষ করতেন
না। তিনি তার শাসনে শক্তভাবে ইসলামী আইন প্রয়োগ করেছিলেন। মদ্যপান ও জুয়া
কে তিনি হারাম বলে ঘোষণা করেছিলেন। নতুন করে জিজিয়া কর চালু করেছিলেন।
মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তিনি
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত। ক্ষমতায় বসার জন্য, নিজের পিতা শাহাজাহানকে
জীবনের শেষ পর্যায়ে বন্দি করেছিলেন। আপন তিন ভাইকে হত্যা করেছিলেন।
সর্বোপরি বলা যায় তিনি একজন সফল শাসক।
১৭০৭খ্রিস্টাব্দে আহমেদ নগর বর্তমান ভারতের মহারাষ্ট্রে তিনি ইন্তেকাল
করেন। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানা যায়, অধিকাংশ সময়ে যুদ্ধ এবং
বয়সজনিত কারণে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৯০ বছর।
তাকে দক্ষিণ ভারতে ডেকানের মহল্লায় সহজ- সাদামাটা সমাধিতে দাফন করা হয়।
লেখকের মন্তব্য
মুঘল শাসকদের মধ্যে এই ৬ জন খুবই জনপ্রিয়। যদিও ১৫ জন শাসক এসেছে মোগল
সাম্রাজ্যে। আমরা মুসলমান, আমাদের ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান
রাখা উচিত। আমাদের মুসলমানদের ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ।
এতোটুকুই ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের মোটামুটি ইতিহাস। যদিও খুঁটিনাটি অনেক কিছুই
বাদ গিয়েছে। তবে ইতিহাসে মুঘলদের এই ৬ জন সম্রাট খুব প্রসিদ্ধ।
সম্রাট বাবরের মুঘল সাম্রাজ্য গঠন থেকে জনপ্রিয় সম্রাট আওরঙ্গজেবের জীবন
দশা পর্যন্ত। আশা করি এই পোষ্টটি পড়ে আপনি ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু
হলেও জানতে পেরেছেন।
জোবায়ের ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url